Skip to content

১ মিলিয়ন ইন্টারনেট গ্রাহক

রোড টু হাইটেক ইন্ডাস্ট্রি সিরিজ: ড্রাফট

বইটা এখনো ড্রাফট

আইএসপি এবং নেটওয়ার্ক অটোমেশন নিয়ে প্রথম বইটা লেখার পর বেশ ভালো সাড়া পেয়েছি। রকমারিতে নেটওয়ার্কিংয়ের বেস্ট সেলার লিস্টে আসাতে মনে হলো বইটার একটা দ্বিতীয় পর্ব আনা যায়। নেটওয়ার্কে কিভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, এআই (চ্যাটজিপিটি এর মতো লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ) আনা যায় সেটাই টোন সেট করবে এই বইটা। এআইকে ঠিকমতো চালাতে দরকার সঠিক ডাটা একটা জায়গায়। সেটাকে বলা হয় নেটওয়ার্ক সোর্স অফ ট্রুথ। এটাকে ঠিক করলেই এআইকে চালানো সম্ভব।

– রকিবুল হাসান, ড্রাফট ভার্সন: ০.৩ (টাইমলাইন ২২ মাস)

আইএসপি এবং নেটওয়ার্ক অটোমেশন বই

আমাদের জীবনে ইন্টারনেটের ব্যবহার বাড়তেই থাকবে বৈকি কমবে না। এই জিনিসটা এমনভাবে ঢুকে গেছে যে ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে শুরু করে সরকারি সার্ভিস, শিক্ষা ব্যবস্থা, ব্যাংকিং, হেলথ কেয়ার - সবকিছুই এখন ইন্টারনেট ছাড়া প্রায় অচল। একটা সময় ছিল যখন ইন্টারনেট ছিল লাক্সারি, এখন সেটা বেসিক নিড। আপনার বাচ্চার অনলাইন ক্লাস থেকে শুরু করে আপনার বাজার করা, বিকাশে টাকা পাঠানো, এমনকি ডাক্তারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়া - সবই ইন্টারনেটের উপর নির্ভরশীল। তাহলে তো মনে হওয়ার কথা - বাংলাদেশে ইন্টারনেটের ব্যবসা এখন রমরমা। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। সেটা হচ্ছে না। বরং এই ব্যবসাটা বড় হতে গেলে প্রতিটা পদে-পদে বাধা এসে দাঁড়াচ্ছে।

পলিসির দিক থেকেও তেমন সুবিধা নেই। যখন সরকার ঠিক করে দেয় যে ন্যূনতম ইন্টারনেট প্যাকেজের দাম হবে ৪০০ টাকা, কিন্তু সেই দাম ঠিক করার আগে সঠিকভাবে কস্ট মডেলিং করা হয় না, তখন পুরো ব্যাপারটাই একটা সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারদের জন্য এটা টেকসই বিজনেস কেস থাকে না। একদিকে গ্রাহক দাম নিয়ে চিন্তা করবে, অন্যদিকে কোম্পানি মার্জিন নিয়ে চিন্তা করবে - আর মাঝখানে 'কোয়ালিটি অফ সার্ভিসে'র বারোটা বেজে যাবে। কানেকশন স্লো হবে, সাপোর্ট খারাপ হবে, আর শেষমেশ কাস্টমার আনহ্যাপি থাকবে। বাংলাদেশের ইন্টারনেট ইন্ডাস্ট্রিতে প্রাইভেট সেক্টর অনেক চেষ্টা করে যাচ্ছে, সবকিছুই নিজেদের পকেট থেকে ইনভেস্ট করছে। কিন্তু পাবলিক সেক্টরের ইনভেস্টমেন্ট খুব বেশি দেখা যায় না। অথচ দেশের ডিজিটাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার শক্তিশালী করতে হলে সরকারি-বেসরকারি দুই সেক্টরেরই এগিয়ে আসা দরকার।

তাহলে এখন প্রশ্ন হচ্ছে, একটা ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার আসলে কীভাবে টিকে থাকবে? কীভাবে বড় হবে?

উত্তর খুব সহজ - স্কেল আপ করতে হবে

বেবি স্টেপ টুওয়ার্ডস অটোমেশন

ইন্টারনেট হলো ভলিউম-ড্রিভেন ব্যবসা। এখানে যতো বেশি কাস্টমার, ততো বেশি স্ট্যাবিলিটি। ছোট স্কেলে যখন আপনার হাজার (১) খানেক কাস্টমার থাকে, তখন প্রতিটা কাস্টমারের জন্য কস্ট অনেক বেশি। কিন্তু যখন সেটা লাখে গিয়ে দাঁড়ায়, তখন পার ইউনিট কস্ট কমতে থাকে। তখন একই ইনফ্রাস্ট্রাকচার থেকে আরও বেশি রিটার্ন আসে। কিন্তু এত বড় সংখ্যার কাস্টমারকে ম্যানুয়ালি সার্ভিস দেওয়া সম্ভব না। হাজার হাজার সংযোগ, প্রতিদিনের সমস্যা, কনফিগারেশন, আপডেট - এগুলো মানুষ দিয়ে করাতে গেলে শুধু ভুলই বাড়বে। একজন টেকনিশিয়ান হয়তো দিনে সাতটা কানেকশন দিতে পারে, কিন্তু যখন আপনার দৈনিক একশটা নতুন কানেকশন দিতে হবে, তখন কী করবেন? আরও মানুষ নিয়োগ দেবেন? তাহলে তো কস্ট আবার বেড়ে যাবে। তাই দরকার অটোমেশন। এই জায়গা থেকেই দু'বছর আগে আমি "নেটওয়ার্ক এবং আইএসপি অটোমেশন" নামে একটা বই লিখেছিলাম। বেবি স্টেপ টুওয়ার্ডস অটোমেশন।

কিন্তু অটোমেশন চালাতে গেলে বড় ইনভেস্টমেন্ট লাগে। সফটওয়্যার লাগে, সিস্টেম ডিজাইন করতে হয়, ইন্টিগ্রেশন লাগে, দক্ষ মানুষ লাগে। আর সবচেয়ে বড় কথা - পুরো নেটওয়ার্কটাকে নতুন আঙ্গিকে দেখতে হয়। ওই দেখাটাও খরচের ব্যাপার। সেই ইনভেস্টমেন্ট আসবে কোথা থেকে? একটা বড় পথ হলো এফডিআই - ফরেন ডিরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা যখন কোনো দেশে টাকা ঢালতে চায়, তখন তারা এমন সেক্টর খোঁজে যেখানে গ্রোথ পটেনশিয়াল আছে। আর বাংলাদেশের ইন্টারনেট সেক্টরে সেই পটেনশিয়াল আছে। কিন্তু বিদেশি বিনিয়োগকারীরা চোখ বন্ধ করে বিনিয়োগ করবে না। তারা প্রথমেই একটা জিনিস খুঁজবে - নেটওয়ার্ক কি স্ট্রাকচার্ড? নেটওয়ার্কের ডেটা কি সঠিকভাবে সাজানো? নেটওয়ার্কের "সোর্স অফ ট্রুথ" কি আছে? মানে, আপনার নেটওয়ার্কে কতগুলো ডিভাইস আছে, কোথায় কোন তার গেছে, কোন এরিয়ায় কত লোড - এসব কি আপনি ঠিকমতো জানেন? এগুলো কি সিঙ্গেল সোর্স অফ ট্রুথ, মানে এক জায়গায় ঠিকমতো ডকুমেন্টেড যা নেটওয়ার্কের আসল স্ট্যাটাস দেখাবে?

কারণ যদি নেটওয়ার্ক বুঝতেই না পারা যায় - তাহলে স্কেল আপ কীভাবে হবে?

যখন একটা নেটওয়ার্ক পরিষ্কারভাবে বোঝা যায় - টোপোলজি থেকে কনফিগারেশন, ওয়ার্কফ্লো থেকে প্রভিশনিং - তখনই লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল বা কোনো অটোমেশন ইঞ্জিন আসল কাজ করতে পারে। একটা স্ট্রাকচার্ড নেটওয়ার্কে আপনি জানেন কোন রাউটার কোন রিং-এ আছে, কোন পপে আছে, কোন সাবনেট সে সার্ভ করছে। এই ডেটা যখন একটা সেন্ট্রাল সিস্টেমে থাকে, তখন অটোমেশন সফটওয়্যার সেখান থেকে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। আর এখন তো "এআই" এসে গেছে। লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল দিয়ে আপনি নেটওয়ার্ক চালানোর অনেক কাজই করিয়ে নিতে পারবেন, যদি আপনার নেটওয়ার্কের একটা ক্লিয়ার পিকচার (সিঙ্গেল সোর্স অফ ট্রুথ) থাকে। কিন্তু এই বেজলাইন না থাকলে অটোমেশন শুধু প্রেজেন্টেশনের স্লাইড হয়ে থাকবে - বাস্তবে কিছুই হবে না।

এখন প্রশ্ন - এই বিশাল কাস্টমার বেইজ বলতে আমি কতজনকে বোঝাচ্ছি?

১ মিলিয়ন

হ্যাঁ, ঠিক ধরেছেন। একটা আইএসপি যদি সত্যিকার অর্থে টেকসই ব্যবসা হতে চায়, তাহলে তার লক্ষ্য হওয়া উচিত ১ মিলিয়ন কাস্টমার। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এটা অসম্ভব কিছু নয়। দেশে ১৭ কোটি মানুষ, আর ইন্টারনেট ইউজার প্রতিদিন বাড়ছে। বরং ঠিকমতো নেটওয়ার্ক সাজালে আর অটোমেশনের পথে হাঁটলে এটা খুবই অ্যাচিভেবল। কিন্তু ১ মিলিয়ন মানে শুধু একটা সংখ্যা নয়। এটা একটা পুরো ইকোসিস্টেম।

১ মিলিয়ন সাবস্ক্রাইবার?

যখন আমরা বলি "১ মিলিয়ন সাবস্ক্রাইবার", তখন এর মানে শুধু কেবল, রাউটার, সুইচ বা বিলিং সিস্টেম না। এর মানে হচ্ছে প্রতিদিন হাজার হাজার ছোট ছোট সমস্যা, টিকেট রিকোয়েস্ট আর ইনসিডেন্ট মিটিগেশন রিকোয়েস্ট। একজন কাস্টমারের নেট স্লো হচ্ছে, আরেকজনের বিল পেমেন্ট হয়নি, কেউ নতুন প্যাকেজ চাইছে, কেউ রাউটার চেঞ্জ করতে চাইছে, কারো নেটফ্লিক্স ঘুরছে। এই হাজারো সমস্যা মানুষ দিয়ে হ্যান্ডেল করা যায় না। আর করলেও সেটা টেকসই হয় না। এটাই সেই জায়গা যেখানে অটোমেশন শুধু "ভালো লাগার" বিষয় না, বরং বেঁচে থাকার প্রয়োজন।

ম্যানুয়াল নেটওয়ার্কের একটা বড় সমস্যা হলো, সেখানে প্রতিটা কাজই মানুষের উপর নির্ভরশীল। যে নেটওয়ার্কে ডিভাইস যোগ করতে গেলে লোকজনকে মাঠে যেতে হয়, কনফিগ কপি-পেস্ট করতে হয়, মেইনটেন্যান্সের জন্য আলাদা টাইম দিতে হয় - সেই নেটওয়ার্ক কখনোই ১ মিলিয়নে উঠতে পারবে না। কারণ, তখন প্রতিটা ভুলই মাল্টিপ্লাই হবে। একজন ইঞ্জিনিয়ার একটা ভুল 'কনফিগ' করলে হয়তো দশ হাজার ইউজার অফলাইনে চলে যাবে চোখের পলকে। আর এই ভুলগুলো হবেই, কারণ মানুষ মানুষ। মানুষ ক্লান্ত হয়, মনোযোগ হারায়, ভুলে যায়। কিন্তু অটোমেশন সিস্টেম একইভাবে কাজ করে প্রতি ইভেন্টে। এই ভুলের জঞ্জাল থেকেই বের হয়ে আসার জন্য প্রয়োজন একটাই শব্দ - স্ট্যান্ডার্ডাইজেশন।

সিঙ্গেল সোর্স অফ ট্রুথ

স্ট্রাকচার্ড নেটওয়ার্ক আসলে কী? এটা হলো এমন একটা নেটওয়ার্ক যেটা মানুষের মুড দেখে না, লোকেশন দেখে না। কোন কেবলটা কোনদিকে যাচ্ছে সেটা খুঁজে বের করার জন্য কাগজের ডায়াগ্রাম লাগে না। বরং সবকিছু থাকে এক জায়গায় - একটা 'সিঙ্গেল সোর্স অফ ট্রুথে'। একটা রাউটার কোন রিং-এ আছে, কোন পপে আছে, কোন সাবনেট সে সার্ভ করছে, তার গত দুই মাসের লোড কত - সবকিছুই সিস্টেমে ইতোমধ্যে লেখা। সেখান থেকেই অটোমেশন সিদ্ধান্ত নেয়। মানুষের দরকার পড়ে শুধু তদারকি করতে। মানুষ হাই-লেভেল ডিসিশন নেয়, আর সিস্টেম এক্সিকিউট করে। আবার এই অটোমেশন থাকলে লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল নিমিষেই সমাধান দিতে পারে কমপ্লেক্স এবং ভবিষ্যৎ সমস্যার। সেটা পরের আলাপ।

তো, এফডিআই কেন অটোমেশন দেখতে চায়? কারণ তারা জানতে চায় তাদের টাকা ব্ল্যাকহোলে যাচ্ছে না তো? একজন ইনভেস্টর যখন আসে, সে প্রথমে দেখবে আপনার নেটওয়ার্ক প্রেডিক্টেবল কিনা। সে জানতে চাইবে, আপনার নেটওয়ার্ক আগামী পাঁচ বছর, দশ বছর স্কেল করতে পারবে কিনা। আপনার কস্ট স্ট্রাকচার কী, অপেক্স কমবে নাকি বাড়বে - এসব হিসাব করতে পারবে কিনা। অটোমেশনবিহীন নেটওয়ার্কে এফডিআই ঢোকানোর মানে হলো পানিতে টাকা ঢালা। টাকা কোথায় যাবে, কোন জায়গায় ইনভেস্টমেন্ট হবে, রিটার্ন কবে হবে - কিছুই বোঝা যায় না। ইনভেস্টররা রিস্ক নিতে চায় না এমন জায়গায়, যেখানে তারা দেখতে পাচ্ছে না কী হচ্ছে।

১ মিলিয়ন - এটা শুধু একটা টার্গেট নয়, এটা একটা টেস্ট। এটা হলো একটা বেঞ্চমার্ক। যদি কোনো আইএসপি এই মাইলফলকে টিকে যেতে পারে, তাহলে ধরে নেওয়া যায় তাদের নেটওয়ার্ক, টিম, অটোমেশন, অপারেশন - সব সিস্টেম্যাটিক্যালি এগিয়ে আছে। তারা জানে কী করছে। আর যেখানে ১০০k ইউজারে নেটওয়ার্ক নাকাল হয়ে যাচ্ছে, সেখানে বোঝা যায় স্ট্রাকচার্ড নেটওয়ার্ক তৈরিতে সমস্যা আছে। সেখানে হয়তো সবকিছু চলছে পুরানো অভ্যাসে, ভাগ্যে, আর কিছু দক্ষ মানুষের উপর নির্ভর করে। কিন্তু সেই মানুষগুলো চলে গেলে, বা ঠিকমতো ম্যানুয়ালি না চালানো গেলে - পুরো সিস্টেম ধ্বসে যায়।

কোথায় শুরু করা যায়?

এখন প্রশ্ন - স্ট্রাকচার্ড নেটওয়ার্ক বানাবেন কীভাবে? কোথা থেকে শুরু করবেন? কোন কোন ডেটা আগে সংগ্রহ করতে হবে? কীভাবে লেয়ার করে নেটওয়ার্ক সাজাতে হবে? কোন কোন জায়গায় 'এলএলএম' বসানো যায়? ১ মিলিয়নের রোডম্যাপ আসলে কেমন দেখতে? এই প্রশ্নগুলোর উত্তরের কিছু আসছে দ্বিতীয় খণ্ডে। সেখানে থাকবে "নেটওয়ার্ক সোর্স অফ ট্রুথ" বানানোর গাইডলাইন, থাকবে প্র্যাক্টিক্যাল স্টেপ, থাকবে কিছু রিয়েল লাইফ এক্সাম্পল। কারণ শুধু থিওরি দিয়ে কিছু হয় না - দরকার হয় হাতে-কলমে কাজ করার রোডম্যাপ।

বইটার প্রথম খন্ড অনলাইনে এবং রকমারিতে

ক. অনলাইন: https://aiwithr.github.io/automation/

খ. রকমারি: https://www.rokomari.com/book/451978/

গ. আদর্শ: https://adarsha.com.bd/shop/2052

ঘ. বাতিঘর: এ মুহুর্তে নেই

ঙ. পাঠক-পয়েন্ট: https://pathokpoint.com/books/44876/

চ. ওয়াফিলাইফ: https://www.wafilife.com/pd/62159

ছ. পিবিএস: https://pbs.com.bd/book/2501305/

এবং "নেটওয়ার্ক এবং আইএসপি অটোমেশন" গুগল কীওয়ার্ড আরো অনেক অনলাইন শপে নিয়ে যাবে।