Skip to content

কেন NSoT ছাড়া স্কেল করা অসম্ভব

যখন সবকিছু মাথায় রাখতে হয়

রফিক ভাই প্রায় পনেরো বছর ধরে তার আইএসপি চালাচ্ছেন। ঢাকার মিরপুর এলাকায় শুরু করেছিলেন মাত্র পঞ্চাশটা কানেকশন দিয়ে। তখন সব মাথায় রাখা যেত। কোন বিল্ডিংয়ে কতজন কাস্টমার, কোন রাউটার কোথায়, কোন তার কোনদিকে গেছে - সব মনে থাকত। একটা সমস্যা হলে তিনি নিজেই বের হয়ে যেতেন। ফোনেই বলে দিতে পারতেন, "ওই বিল্ডিংয়ের তিন তলার সুইচটা চেক করো, ওইটাতেই প্রবলেম।"

কিন্তু বিজনেস যখন বাড়তে শুরু করল, তখন থেকেই ঝামেলা। প্রথমে পাঁচশ কাস্টমার হলো, তারপর হাজার। এখন প্রায় পাঁচ হাজার। রফিক ভাই এখন আর সব মনে রাখতে পারেন না। তার দুইজন টেকনিশিয়ান আছে - জাহিদ আর সুমন। জাহিদ জানে মিরপুরের নেটওয়ার্ক, সুমন জানে পল্লবীর নেটওয়ার্ক। কিন্তু জাহিদ যখন ছুটিতে থাকে, তখন মিরপুরে কোনো সমস্যা হলে কেউ বুঝতে পারে না কী করতে হবে। একবার তো এমন হলো, একটা রাউটারে কনফিগ চেঞ্জ করতে গিয়ে সুমন ভুল করে অন্য একটা সাবনেট ডিলিট করে ফেলল। তিনশ কাস্টমার অফলাইনে চলে গেল। রাত দুইটা পর্যন্ত লেগে গেল ঠিক করতে।

এটাই হলো আনস্ট্রাকচার্ড নেটওয়ার্কের আসল সমস্যা। সবকিছু মানুষের মাথায়, মানুষের অভিজ্ঞতায়, আর হাতে লেখা কিছু নোটে। কোনো সেন্ট্রাল সিস্টেম নেই যেখানে সবকিছু লেখা আছে। এক্সেল শিট আছে কয়েকটা, কিন্তু সেগুলো কেউ আপডেট করে না। শেষ আপডেট হয়েছিল ছয় মাস আগে। নতুন যেসব ডিভাইস যুক্ত হয়েছে, সেগুলোর কথা সেখানে নেই।

ছোট স্কেলে চলে, বড় হলে বিপদ বাড়ে

যখন কাস্টমার কম, তখন এভাবে চালানো যায়। দশজন কাস্টমার, বিশজন কাস্টমার - এসব সামলানো কঠিন না। এমনকি হাজার খানেক কাস্টমার পর্যন্ত হয়তো ম্যানেজ হয়ে যায়, যদি আপনার কাছে ভালো কয়েকজন টেকনিশিয়ান থাকে যারা নেটওয়ার্ক ভালো বোঝে। কিন্তু যখন আপনি দশ হাজার কাস্টমারে যেতে চাইবেন, তখন এই সিস্টেম কাজ করবে না। আর এক লাখে যাওয়ার কথা তো চিন্তাই করা যায় না।

কেন? কারণ যত বড় হবেন, তত বেশি ডিভাইস লাগবে, তত বেশি কনফিগারেশন লাগবে, তত বেশি মানুষ লাগবে। আর মানুষ মানেই ভুল। একজন টেকনিশিয়ান হয়তো ক্লান্ত, রাত জেগেছে, কনসেন্ট্রেশন নেই - তখন একটা ভুল কনফিগ করে বসল। সেই ভুলের ইফেক্ট পড়ল হাজার খানেক কাস্টমারের উপর।

আবার ধরুন, আপনার টিমে দশজন টেকনিশিয়ান। প্রত্যেকে নিজের মতো করে কাজ করে। একজন রাউটারের নাম দেয় "R1-Mirpur", আরেকজন দেয় "Mirpur-Router-01", আরেকজন দেয় শুধু "Mirpur1"। এখন যখন আপনি একটা রিপোর্ট বের করতে চাইবেন যে মিরপুরে মোট কতগুলো রাউটার আছে, তখন খুঁজে পাবেন না। কারণ কোনো স্ট্যান্ডার্ড নেই, কোনো নিয়ম নেই।

এই যে অবস্থা, এটা দিয়ে পাঁচ হাজার কাস্টমার পর্যন্ত যাওয়া যায় হয়তো, কিন্তু তার পরে? তার পরে আপনি আটকে যাবেন। কারণ আপনার কাছে কোনো ক্লিয়ার পিকচার নেই যে আপনার নেটওয়ার্ক আসলে কেমন।

যখন ইনভেস্টর দরকার হয়

এবার ধরুন, রফিক ভাইয়ের আইএসপি ভালোই চলছে। তিনি এখন বড় করতে চান। হয়তো এক লাখ কাস্টমার পর্যন্ত যেতে চান। এর জন্য দরকার বড় ইনভেস্টমেন্ট। নতুন ফাইবার লাইন টানতে হবে, নতুন ডিভাইস কিনতে হবে, আরও মানুষ নিয়োগ দিতে হবে। তার নিজের পকেটে এত টাকা নেই। তাই তিনি খুঁজছেন ইনভেস্টর। হতে পারে কোনো ভেঞ্চার ক্যাপিটাল, হতে পারে কোনো ফরেন ইনভেস্টর।

একদিন একটা ইনভেস্টমেন্ট ফার্ম থেকে লোক এলো। তারা আগ্রহী। কিন্তু তাদের কিছু প্রশ্ন আছে। প্রথম প্রশ্ন: "আপনার নেটওয়ার্কে মোট কতগুলো ডিভাইস আছে?" রফিক ভাই একটু চিন্তা করলেন। "আছে তো... মনে হয় পঁচাত্তর থেকে আশিটার মতো হবে। জাহিদকে ফোন দেই, ও ঠিক বলতে পারবে।"

দ্বিতীয় প্রশ্ন: "আপনার আইপি অ্যাড্রেস ইউটিলাইজেশন কত? মানে, আপনার কাছে যে আইপি রেঞ্জ আছে, তার কতটুকু ইউজ হচ্ছে?" রফিক ভাই আরেকটু চিন্তায় পড়লেন। "এটা তো... মানে, আমাদের কাছে তো একটা এক্সেল শিট আছে। ওইটা দেখলে হয়তো বলা যাবে।"

তৃতীয় প্রশ্ন: "আপনার নেটওয়ার্কে রিডানডেন্সি কোথায় কোথায় আছে? মানে, যদি একটা লিংক ডাউন হয়, তাহলে ব্যাকআপ পাথ কী?" এবার রফিক ভাই একদম চুপ। "দেখুন, আমরা তো... মানে, এটা একটু... জাহিদ আর সুমন মিলে একটা ড্রয়িং করে দিতে পারবে কয়েক দিনে।"

ইনভেস্টররা হাসলেন। কিন্তু সেই হাসিতে আস্থা ছিল না। তারা চলে যাওয়ার আগে বললেন, "দেখুন, আপনার বিজনেস ভালো চলছে, কিন্তু আপনার নেটওয়ার্ক স্ট্রাকচার্ড না। আপনি নিজেই জানেন না আপনার কাছে কী আছে। আমরা কোটি টাকা ইনভেস্ট করব এমন একটা জায়গায় যেখানে বেসিক ইনফরমেশনই নেই? এটা তো রিস্কি।"

স্ট্রাকচার্ড নেটওয়ার্ক মানে কী

স্ট্রাকচার্ড নেটওয়ার্ক মানে হলো এমন একটা নেটওয়ার্ক যেটা সম্পর্কে আপনার কাছে সব তথ্য আছে, আর সেই তথ্য একটা জায়গায় সংরক্ষিত আছে। আপনি জানেন কোথায় কী আছে। আপনি জানেন কোন ডিভাইস কোন জায়গায়, কোন আইপি কোথায় ইউজ হচ্ছে, কোন কাস্টমার কোন রাউটারের আন্ডারে আছে। শুধু জানাই না, এই তথ্যগুলো এমনভাবে সাজানো যে যেকেউ চাইলেই দেখতে পারবে, বুঝতে পারবে।

এর মানে এই না যে আপনার নেটওয়ার্ক পারফেক্ট। সমস্যা হবেই। ডিভাইস ডাউন হবে, লিংক কাট যাবে। কিন্তু যখন সমস্যা হবে, তখন আপনি জানবেন কোথায় যেতে হবে, কী চেক করতে হবে। আর সবচেয়ে বড় কথা, আপনার টিমের যেকোনো মেম্বার সেই তথ্য পাবে। জাহিদ না থাকলে সুমন কাজ করতে পারবে, সুমন না থাকলে নতুন কেউ কাজ করতে পারবে।

একটা উদাহরণ দিই। ধরুন আপনি একটা বড় লাইব্রেরিতে গিয়েছেন। সেখানে লাখ খানেক বই আছে। এখন যদি সেই বইগুলো এলোমেলো করে রাখা থাকে, তাহলে আপনি একটা নির্দিষ্ট বই খুঁজতে কতক্ষণ লাগবে? হয়তো ঘণ্টার পর ঘণ্টা, হয়তো পুরো দিন। কিন্তু যদি বইগুলো ক্যাটাগরি অনুযায়ী সাজানো থাকে, প্রতিটা বইয়ের একটা কোড থাকে, একটা ক্যাটালগ সিস্টেম থাকে - তাহলে আপনি পাঁচ মিনিটে বইটা খুঁজে পাবেন।

নেটওয়ার্কও ঠিক তাই। আনস্ট্রাকচার্ড নেটওয়ার্ক হলো এলোমেলো লাইব্রেরির মতো। স্ট্রাকচার্ড নেটওয়ার্ক হলো সুসজ্জিত লাইব্রেরির মতো।

যখন টিম বড় হয়, তখন?

ছোট টিম থাকলে হয়তো মুখে মুখে কমিউনিকেশন করে কাজ চালানো যায়। রফিক ভাই জাহিদকে বলবেন, জাহিদ করে দেবে। কিন্তু যখন আপনার টিমে কুড়িজন, ত্রিশজন মানুষ - তখন? তখন মুখে মুখে কাজ হবে না। তখন দরকার একটা সিস্টেম যেখানে সবাই দেখতে পারবে কী কী তথ্য আছে।

ধরুন, একজন নতুন টেকনিশিয়ান জয়েন করল। তার নাম রাকিব। প্রথম দিন অফিসে এসে সে জানতে চাইল, "আমাকে কী কী শিখতে হবে? নেটওয়ার্ক কেমন?" এখন যদি স্ট্রাকচার্ড সিস্টেম থাকে, তাহলে তাকে একটা লগইন দিয়ে বলা যাবে, "এই সিস্টেমে ঢুকে দেখো। সব ডিভাইস, সব কানেকশন, সব কনফিগ এখানে আছে।" রাকিব নিজে নিজেই শিখে নিতে পারবে।

কিন্তু যদি আনস্ট্রাকচার্ড সিস্টেম হয়, তাহলে তাকে জাহিদের সাথে দুই সপ্তাহ ঘুরতে হবে, সুমনের সাথে আরও দুই সপ্তাহ ঘুরতে হবে, তারপরেও সে পুরো নেটওয়ার্ক বুঝবে না। এতে সময় নষ্ট, টাকা নষ্ট, আর প্রোডাক্টিভিটি কম।

যখন অটোমেশন চালাতে হয়

এখন আসি অটোমেশনের কথায়। আপনি যদি দশ হাজার কাস্টমার সার্ভ করতে চান, তাহলে সব কাজ ম্যানুয়ালি করা অসম্ভব। আপনাকে অটোমেশন ইউজ করতেই হবে। কিন্তু অটোমেশন চালাতে গেলে প্রথম যে জিনিসটা লাগে, সেটা হলো ডেটা। ক্লিয়ার, অর্গানাইজড, আপ-টু-ডেট ডেটা।

ধরুন, আপনি একটা স্ক্রিপ্ট লিখলেন যেটা সব রাউটারে গিয়ে একটা কনফিগ আপডেট করবে। এখন সেই স্ক্রিপ্টকে জানতে হবে রাউটারগুলো কোথায় আছে, তাদের আইপি অ্যাড্রেস কী, লগইন ক্রেডেনশিয়াল কী। এই তথ্য যদি কোনো সেন্ট্রাল জায়গায় না থাকে, তাহলে স্ক্রিপ্ট চলবে কীভাবে?

আবার ধরুন, আপনার স্ক্রিপ্ট মনে করছে একটা রাউটারের আইপি হলো 10.10.1.1, কিন্তু আসলে গত সপ্তাহে কেউ সেটা চেঞ্জ করে 10.10.1.5 করে দিয়েছে। আপনার স্ক্রিপ্ট সেই পুরোনো আইপিতে কানেক্ট করতে যাবে, ফেইল করবে। তারপর আপনি ভাববেন স্ক্রিপ্টে প্রবলেম, কিন্তু আসলে প্রবলেম হলো ডেটা আপডেট না থাকা।

এই কারণেই অটোমেশনের আগে দরকার একটা রিলায়েবল সোর্স অফ ট্রুথ। একটা জায়গা যেখানে সব সঠিক তথ্য থাকবে, যেখান থেকে অটোমেশন সিস্টেম ডেটা নিয়ে কাজ করবে।

স্কেলের ম্যাথ

এবার একটু ম্যাথ করা যাক। ধরুন, একটা ছোট আইএসপিতে পাঁচশ কাস্টমার আছে। তাদের দশটা রাউটার আছে, তিনজন টেকনিশিয়ান আছে। গড়ে একটা রাউটারে পঞ্চাশজন কাস্টমার। এখন যদি একটা রাউটারে সমস্যা হয়, তাহলে পঞ্চাশজন কাস্টমার আফেক্টেড হবে। এটা ম্যানেজেবল।

এবার ধরুন, একটা বড় আইএসপিতে পঞ্চাশ হাজার কাস্টমার আছে। তাদের পাঁচশ রাউটার আছে। গড়ে একটা রাউটারে একশ কাস্টমার। এখন যদি একটা রাউটারে সমস্যা হয়, তাহলে একশ কাস্টমার আফেক্টেড হবে। আর যদি একটা কোর রাউটারে সমস্যা হয়, তাহলে হয়তো দশ হাজার কাস্টমার আফেক্টেড হবে।

এই স্কেলে, আপনি ম্যানুয়ালি ট্রাবলশুট করার সময় পাবেন না। আপনার দরকার হবে তাৎক্ষণিক তথ্য - কোন রাউটার ডাউন, কোন কাস্টমাররা আফেক্টেড, ব্যাকআপ পাথ কী, কীভাবে দ্রুত রিকভার করা যাবে। এই তথ্য যদি আপনার কাছে একটা সিস্টেমে সাজানো না থাকে, তাহলে আপনি ঘণ্টার পর ঘণ্টা নষ্ট করবেন শুধু বুঝতে যে আসলে কী হয়েছে।

ফাইনান্সিয়াল ইমপ্যাক্ট

এবার টাকার হিসাব করি। ধরুন, একটা আউটেজ হলো যেটা দুই ঘণ্টা চলল। এই দুই ঘণ্টায় পাঁচ হাজার কাস্টমার আফেক্টেড হলো। প্রতিটা কাস্টমার যদি গড়ে পাঁচশ টাকা মাসিক দেয়, তাহলে তাদের পার আওয়ার কস্ট হলো প্রায় ০.৭০ টাকা। পাঁচ হাজার কাস্টমার মানে দুই ঘণ্টায় সাত হাজার টাকার লস। এটা তো শুধু ডাইরেক্ট কস্ট।

এর সাথে যোগ হবে কাস্টমার সাপোর্ট কস্ট। পাঁচ হাজার কাস্টমার মানে হয়তো পাঁচশ কল আসবে। প্রতিটা কলে দশ মিনিট সময় লাগলে সেটা পাঁচ হাজার মিনিট বা তিরাশি ঘণ্টা। তিনজন কাস্টমার সাপোর্ট স্টাফ থাকলে তারা সারাদিন ব্যস্ত থাকবে শুধু এই একটা ইস্যু নিয়ে।

তারপর আছে রেপুটেশনাল ড্যামেজ। কাস্টমাররা সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করবে, "আমার আইএসপি বারবার ডাউন হয়।" কিছু কাস্টমার হয়তো কানেকশন ক্যান্সেল করে অন্য আইএসপিতে চলে যাবে। এসব মিলিয়ে একটা দুই ঘণ্টার আউটেজের কস্ট হতে পারে লাখ টাকারও বেশি।

এখন যদি আপনার কাছে স্ট্রাকচার্ড নেটওয়ার্ক থাকত, তাহলে এই আউটেজ হয়তো পাঁচ মিনিটেই ডিটেক্ট হয়ে যেত, দশ মিনিটে ফিক্স হয়ে যেত। কস্ট হতো হয়তো কয়েক হাজার টাকা। পার্থক্যটা দেখতে পাচ্ছেন?

কম্পিটিশনের যুগ

আরেকটা বিষয় মাথায় রাখতে হবে। এখন আর আগের মতো নেই যে একটা এলাকায় একটাই আইএসপি থাকবে। এখন প্রায় প্রতিটা এলাকায় তিন-চারটা আইএসপি আছে। কাস্টমারদের চয়েস আছে। তারা যদি দেখে আপনার সার্ভিস খারাপ, নেট স্লো, বারবার ডাউন হয় - তারা চলে যাবে অন্য কোম্পানিতে।

এই কম্পিটিটিভ মার্কেটে টিকে থাকতে হলে আপনার সার্ভিস কোয়ালিটি ভালো হতে হবে। আর সার্ভিস কোয়ালিটি ভালো করতে হলে আপনার নেটওয়ার্ক স্ট্যাবল হতে হবে, রিলায়েবল হতে হবে। আর সেটা করতে হলে দরকার স্ট্রাকচার্ড নেটওয়ার্ক, দরকার নেটওয়ার্ক সোর্স অফ ট্রুথ।

যেসব কোম্পানি এখনই এই জিনিসগুলো ইমপ্লিমেন্ট করছে, তারা এগিয়ে যাচ্ছে। যারা এখনও পুরোনো পদ্ধতিতে চলছে, তারা পিছিয়ে পড়ছে। পাঁচ বছর পরে দেখা যাবে, যারা স্ট্রাকচার্ড নেটওয়ার্ক বানিয়েছে তারা লাখ খানেক কাস্টমার সার্ভ করছে, আর যারা বানায়নি তারা এখনও কয়েক হাজার কাস্টমার নিয়ে আটকে আছে।

তো, তাহলে কী করবো?

NSoT ছাড়া স্কেল করা অসম্ভব - এই কথাটা আমি হালকাভাবে বলছি না। এটা আমার নিজের অভিজ্ঞতা, আর অনেক আইএসপির সাথে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে বলছি। ছোট স্কেলে হয়তো কোনোরকমে চালিয়ে নেওয়া যায়, কিন্তু যখন বড় হতে যাবেন, তখন এই ফাউন্ডেশন ছাড়া দাঁড়ানো যাবে না।

রফিক ভাইয়ের গল্প দিয়ে শুরু করেছিলাম। রফিক ভাই এখন বুঝে গেছেন তার কী দরকার। তিনি ঠিক করেছেন, তিনি একটা প্রপার NSoT সিস্টেম বানাবেন। হয়তো সেটা Nautobot হবে, হয়তো অন্য কিছু। কিন্তু সিস্টেম থাকতেই হবে। কারণ তিনি জানেন, এই সিস্টেম ছাড়া তিনি এক লাখ কাস্টমারে যেতে পারবেন না, ইনভেস্টর আনতে পারবেন না, টিম স্কেল করতে পারবেন না।

আর সবচেয়ে বড়ো কথা, রাতে ঘুমাতে পারবেন না। কারণ সবসময় একটা ভয় থাকবে - কখন কোথায় কী সমস্যা হয়, আর সেটা ঠিক করতে কত সময় লাগবে। কিন্তু যখন NSoT থাকবে, তখন অন্তত জানবেন কী হচ্ছে, কোথায় হচ্ছে, আর কী করতে হবে।

পরের চ্যাপ্টারে আমরা দেখব NSoT আসলে কী জিনিস, এর কম্পোনেন্টগুলো কী কী, আর কীভাবে এটা কাজ করে।