১.৫. সরকারি ওপেন ডাটা¶
প্রযুক্তির মার্ভেল দেখাচ্ছে সবাই। আর দেখাবেই না কেন? মানুষ তো তুলে দিয়েছে তার সবকিছু ইন্টারনেটে। ক্লাউডে। সোশ্যাল মিডিয়াতে। তার সব মতামত। তার পছন্দের অপছন্দের খবর। কোন ঘরানার মানুষ সে। কোন রেস্টুরেন্টে যাওয়া পড়ে বেশি। সেটার সুবিধা নিচ্ছে বুদ্ধিমান কোম্পানিগুলো। কেন নয়? আমি যদি দরকার মতো প্রোডাক্ট খুঁজতে পারি ইন্টারনেটে, সে নয় কেন? সেও খুঁজছে প্রোডাক্ট। আমার আপনার মতো।
কখনো ভেবেছেন গুগল ম্যাপ কিভাবে জানে এতো ট্রাফিক ইনফরমেশন?
অথবা,
ও কিভাবে জানে আপনার দেরি হচ্ছে তিন মিনিট? কিভাবে বের করছে ফাস্টেস্ট রুট? গুগল ম্যাপে। অথবা উবারে?
আমরা পারছি না কেন ওই জিনিস? ট্রাফিক জ্যাম কমাতে? নিজেদের? নিজেদের বাস সার্ভিসে? বাসা থেকে বের হবার আগে দেখে নিতে – কোন বাসটা আসছে মিরপুর দশ নম্বরে? পাঁচ মিনিটের মধ্যে।
ডাটার ক্ষমতা অনেক। বিশেষ করে 'ওপেন ডাটা'। ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন সরকারী সাইটে। বিভিন্ন অ্যানুয়াল রিপোর্টে। এই ডাটা নিয়ে বুদ্ধিমান সরকারগুলো পাল্টাচ্ছে নিজেদের সব ‘রদ্দি’ নীতিমালা। সবার কথা, যেই নীতিমালার আউটকাম নেই বললেই চলে, সেটাকে পাল্টে ফেলা ভালো। তো, জানবেন কিভাবে কোন নীতিমালা কাজ করছে ওই দেশে? আর কোনটা না? বিগ ডাটা অ্যানালাইসিস। পাঁচ দশ বছরের ডাটা ফেলেই দেখুন না – কি করে সেটা? মাথা ঘুরতে থাকবে সারাদিন।
মজার কথা হচ্ছে দেশগুলোর সরকারী ডাটার ৯৭ শতাংশই ওপেন ডাটা। মানে, ব্যবহার করতে পারে সবাই। আর সেটা করা হয়েছে জনগনের সুবিধার কথা চিন্তা করেই। সরকারগুলো তাদের সব পাবলিক ডাটা নিয়ে তৈরি করছে আলাদা অ্যানালাইটিক্স। গুগল করুন “গভর্নমেন্ট ওপেন পাবলিক ডাটা”। প্রতিটা নীতিমালার আউটকাম দেখা যায় আগে থেকেই। বাস্তবায়ন করার আগেই। পুরোনো ডাটা থেকে। মডেলিং করে। দেশগুলো রক্ষা পায় টাকা নষ্ট হবার হাত থেকে। আমাদের দেশেও শুরু হয়েছে এই ওপেন ডাটার সাইট।
ধরুন, ‘ক’ দেশের সরকার চিন্তা করলেন টিফিন দেয়া হবে স্কুলে। বাচ্চাদের ছোটবেলার পুষ্টির কথা চিন্তা করে। স্কুলে উপস্থিতি বাড়াতে। সরকার সামান্য ইনভেস্টও করলেন ব্যাপারটাতে। এখন, ৫০ বছর পর দেখতে চাইলেন ওই সামান্য নীতিমালার প্রভাব কতটুকু পড়েছে দেশের পুরো জনগোষ্ঠী ওপর। এখন আমরা জানি ওই ‘টিফিন’ দেশগুলো কোথায় আছে সবকিছুতে।
বিগ ডাটা অ্যানালাইসিস কাজে লাগিয়ে সবচেয়ে স্মার্ট বাচ্চাগুলোকে ‘ট্র্যাক’ করতে পারি স্কুল থেকেই। পরীক্ষার সব ডাটা কিন্তু ওপেন। ওদেরকে ‘ট্রেইন’ করতে পারি ছোট থেকেই। লিডারশীপ রোলে। সন্তর্পনে। কে কোন বিষয়ে ভালো খারাপ করছে সেটাও থাকবে নজরদারিতে। যারা ওই ছোটবেলা থেকে তৈরি করতে পারবে ‘ভ্যালু’, সমাজের জন্য – তাদের পেছনে ইনভেস্ট করবে সরকার।